মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে সাতক্ষীরা ও দিনাজপুরের হিলিতে খুচরা পর্যায়ে এসব পণ্যের দাম কেজিতে ১২-২৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ঈদের আগে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের এমন মূল্যবৃদ্ধিতে চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষ।
গতকাল সাতক্ষীরার সুলতানপুর বড় বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক সপ্তাহের ব্যবধানে খুচরা পর্যায়ে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১৫ টাকা বেড়েছে। রসুনের দাম কেজিতে ২০-২৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, গত সপ্তাহে যে রসুন ৬০-৬৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে, তা এখন ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে ৩৫ টাকা কেজির পেঁয়াজ এখন বিক্রি হচ্ছে ৪৫-৫০ টাকা দরে। ব্যবসায়ীদের দাবি, কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে ক্রেতারা অতিরিক্ত পেঁয়াজ ও রসুন কিনে মজুদ করছেন। ফলে বাজারে এক ধরনের কৃত্রিম সংকট দেখা দিয়েছে।
ভোমরা বন্দরের কৃষিজাত পণ্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স গনি অ্যান্ড সন্সের ব্যবস্থাপক অশোক কুমার ঘোষ জানান, জানুয়ারি থেকে ভোমরা বন্দর দিয়ে ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। দেশের বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। ফলে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে দাম বেড়েছে মসলাজাত পণ্যটির।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা এসএম আব্দুল্লাহ বণিক বার্তাকে জানান, বাজারে সরবরাহ ঘাটতির কারণে পেঁয়াজ ও রসুনের দাম বেড়েছে। তবে হঠাৎ সরবরাহ ঘাটতির অন্যতম কারণ ক্রেতারা সাধারণত প্রয়োজনের অতিরিক্ত পেঁয়াজ-রসুন কিনছেন। ক্রেতাদের ধারণা কোরবানির ঈদের সময় পেঁয়াজ-রসুনের দাম বাড়বে। তবে দেশে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ-রসুনের সরবরাহ রয়েছে ।
এদিকে দিনাজপুরের হিলি বাজারেও এক সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১২-১৫ টাকা বেড়েছে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহে ২৮-৩০ টাকা দরে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন জাতের পেঁয়াজ বর্তমানে ৪০-৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। হিলির খুচরা বিক্রেতারা জানান, মুড়িকাটা পেঁয়াজের মৌসুম শেষ হওয়ায় বাজারে সরবরাহ কমেছে। নতুন হালি জাতের পেঁয়াজ বাজারে এলেও তার সরবরাহ এখনো পুরোদমে শুরু হয়নি। ফলে মোকামেই প্রতি মণ পেঁয়াজ ১ হাজার টাকার পরিবর্তে এখন ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর দিনাজপুরের ইনচার্জ বোরহান উদ্দিন বলেন, ‘নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত তদারকি চলছে। কেউ অহেতুক পণ্য মজুদ বা কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে বা বাড়তি দাম রাখলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’